Thursday, 14 July 2016

ভালোবাসার দৃপ্তিমান আলো


-
.
এলাকার মোড়ে বিকেলে ক্যারাম খেলছিলাম,হঠাৎ ক্যারাম বোর্ডের উপরে বিকেলের মৃদু রৌদ এসে বোর্ডের উপর পড়ল। এতে করে ক্যারাম খেলার ক্ষণিকরের জন্য বিঘ্ন ঘটল। ক্যারামের ওপাশ থেকে আবির বলল, আলো আসছে। আমি বিরক্তবোধ হয়ে বললাম, আলো আসছে, সেটা তো দেখতেই পাচ্ছি। ক্যারাম বোর্ডের উপর আলো পড়েছে! আবির বলল ভাই আমি এই আলোর কথা বলছি না, পিঁছনে তাঁকিয়ে দেখেন একবার। পিঁছনে তাঁকিয়ে দেখি সত্যিই আলো আসছে, আর আলো আমার উপর রাগ করে আছে, কারণ এতক্ষণ সবই শুনছিল আলো, আর আলো আমাকে এলাকার মোড়ে এভাবে ক্যারাম খেলতে বাড়ন করেছে, এজন্য আলোর খুব রাগ হয়েছে। এজন্য পরক্ষণেই রিক্সায় উঠে চলে গেল। আমি স্বব্ধ হয়ে শুধু তাঁকিয়ে রইলাম, কিছুক্ষণ পর আবির কে বললাম, কি ব্যবপার আবির! আলো আসছে একটু বলবি না? ভাইয়া আমি তো বললামই আলো আসছে। আমি তো ভেবেছিলাম ক্যারাম বোর্ডের উপর আলো পড়ছে, এই কথা বলেছিলি। যাইহোক তুই থাক, আমি আলোর অভিমান ভাঙগিয়ে আসছি।
.
বাইকে নিয়ে আলোর রিক্সা অনুসরণ করতে শুরু করলাম। বুঝতে পারলাম আলো ইউনিভারসির্টিতে
যাচ্ছে, এজন্য ওয়াকীল'কে ফোন (ওয়াকীল আলোর খুব ভাল বন্ধু) দিলাম। আলো ভারসির্টির গেটে নামতেই ওয়াকীলের সাথে ওদের ডিপামেন্টের দিকে চলে গেল, আমি বাইক নিয়ে আসার জন্য একটু সমস্যা হল। আবির কে ফোন দিলাম, হ্যালো রোমান ভাইয়া কি হয়েছে? সরকারি কলেজে, আয় আর আমার বাইকটা নিয়ে যা, বাইক সায়েন্স ডিপামেন্টের সামনেই আছে আর চাবি গিয়ার বক্সের নিচে রেখে গেলাম, এসে নিয়ে যাস। আসলে এর আগে কলেজে সমস্যা হয়েছিল, এজন্য বাইক নিয়ে আসা একটু সমস্যা। অতপর আমি আলোর ডিপামেন্টের সামনে গিয়ে ওয়াকীল কে ফোন দিয়ে বললাম, আলোকে নিয়ে সায়েন্স ডিপামেন্টের পিঁছনে চলে আয়, আর আলো যেন না যানে আমি এখানে আছি, ঠিক আছে আসছি।
.
ওয়াকীলের হাঁত ধরে, আলো নাঁচতে নাঁচতে......
সায়েন্স ডিপামেন্টের পিছনে আসছে, এগুলো দেখে বুকে মাঝ ক্ষানে মোঁচড় দিয়ে উঠল। আলো আমাকে দেখে ওয়াকীলের গাঁ ঘেসে হাঁটছে! আলো আসা মাত্রই আমাকে বলল তুমি এখানে আসছো কেন? কেন আমার আসতে মানা নাকি? আমি কিন্তু সেটা বলি নি, তাহলে কি বলতে চেয়েছো? না কিছু না! তুমি এখান থেকে যাও আর আসবে না, আমার কাছে! কথা গুলো কি তুমি ভেবে বললে তো আমাকে? হ্যাঁ ' ভেবেই বললাম। আচ্ছা ঠিক আছে, আমি চলে যাচ্ছি। এই বলে আমি পিঁছন ফিরে না, তাঁকিয়ে চলে আসছিলাম। হঠাৎ অনুভব করলাম কে, যেন আমাকে জড়িয়ে ধড়ল! আশ্চর্য্য হলাম। জিজ্ঞেস করলাম আলোকে কি হলো আমাকে জড়িয়ে ধরলে কেন? আমাকে আমার মত চলতে দাও! প্লিজ তুমি অন্তত এমন কথা বলো না, আমি তোমাকে ছাঁড়া বাঁচতে পারব না । তুমি আমাকে বলো, আমাকে ছেঁড়ে আর কখনো এভাবে চলে যাবে না? না! আমি তোমাকে ছেঁড়ে চলে যাব, আচ্ছা তুমি বলো তো, তোমাকে ছেঁড়ে এ পযর্ন্ত কতবার ছেড়ে চলে গিয়েছি। তুমি আমাকে ছেড়ে অনেকবার চলে গেছ, কম পক্ষে ৫০০ বার হবে। হ্যাঁ, একদম ঠিক বলেছ, কিন্তু তোমাকে ছেঁড়ে চলে যায়, কারণ আবার ফিরে আসি এজন্য। এখন তুমি আমাকে কখা দাও আর কখনো আমাকে ছেঁড়ে চলে যাবে না। কেন তোমাকে ছেড়ে চলে যেতে পারব না, হুুঁ! প্লিজ তুমি আর এমন করো না। আচ্ছা সোনা পাখি আর কখনো তোমাকে ছেড়ে চলে যাব না। কেমন! এবার একটা মিষ্টি হাঁসি দাও তো সোনা পাখি? একথা বলার সঙ্গে সঙ্গে আলো অসম্ভব সুন্দর একটা হাঁসি দিল, আলোর হাঁসি দেখে প্রাণটা জুড়িয়ে গেল। পরক্ষণেই মনের অন্তরালে ভালোবাসার কল-স্রোত কল...কল...কল... করে, ঝড়ার্ণার মত বইতে লাগল।
.
আলো বলল, চলো আজ সুমুদ্র পারে ঘুড়তে যাব, তুমি কি আমাকে নিয়ে যাবে? আমি সঙ্গে...সঙ্গে...উত্তর দিলাম- অবশ্যই তোমাকে নিয়ে যাব। আর ওয়াকীলকে বললাম দোস্ত তোর সাথে পড়ে কথা হবে, থাক দোস্ত গেলাম। এরপর আলোকে নিয়ে রিক্সা করে, সুমুদ্র পারের উদ্দেশ্য রওনা হলাম। রিক্সা করে ঘুড়তে বেশ ভাল লাগে, আর আলোকে দেখতে অসম্ভব সুন্দর লাগছিল, আলোর হরণী চোখ আর কেশ-কালো ঘন চুল গুলো যখন বাতাসে ঠোঁটের অন্তরালে যখন প্রবেশ করেছিল, তখন বেশ ভাল লাগছিল আর চুল গুলো যখন আলোর অনুমতি ছাড়া ঠোঁটের উপর এসে পড়ল, তখন আলো চুল গুলোর উপর অভিমান করে ছিল। কিছুদূর যেতেই আবির সাথে দেখা হল, ভাইয়া বাইক নাও, তোমার আমি বাসায় যাব। এরপর রিক্সার ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে, আলো আমার বাইকের পিঁছনে চেপে বসল, আর আমাকে শক্ত করে ধরল। অতপর বিচে গিয়ে পৌঁছালাম, তখন আকাশটা বেশ নীল ছিল, এছাড়াও সূর্য ডোবার সময় হয়ে আসছি, এজন্য প্রকৃতিটা বেশ উপভোগ করছিলাম। নীল আকাশের মাঝে লাল সূর্য অসম্ভব সুন্দর লাগছিল। আর সূর্য মামার দৃপ্তিমাণ আলো এসে আমার আলোকে রাঙিয়ে দিল।




Roman Ahmed (পাবনার অদ্ভুত ছেলে) 

No comments:
Write comments